শুক্রবার রাত ১১:২৬

১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

২রা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

২৯শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ বসন্তকাল

কারা আছেন সেই নিখোঁজ সাবমেরিনে

এক সাবমেরিন দিয়ে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ পর্যটক। টাইটান নামের ডুবোজাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে শব্দ পাওয়ার দাবি করেছে একটি উদ্ধারকারী দল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সাবমেরিনটির পাঁচ পর্যটকের মধ্যে আছেন ব্রিটিশ ধনকুবের হামিশ হার্ডিং এবং পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান। এছাড়া রয়েছেন সাবেক ফরাসি নৌবাহিনীর ডুবুরি পল হেনরি নারজিওলেট। সাবমেরিন টাইটানের মালিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওশানগেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টকটন রাশও আছেন এই দলে।

বিবিসি জানায়, হার্ডনিং চলতি মাসের শুরুতে এই সাবমেরিন দলে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ এ ধনকুবের আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন সংস্থা অ্যাকশন অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান। তাঁর এ ব্যবসা সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই থেকে পরিচালিত হয়।

হার্ডনিং এর আগে একাধিকবার দক্ষিণ মেরু ভ্রমণ করেছেন। এরমধ্যে একবার সাবেক মহাকাশচারী বাজ অলড্রিনের সঙ্গে তিনি দক্ষিণ মেরু ভ্রমণে যান। গত বছর মার্কিন কোম্পানির ব্লু অরিজিনের নভোযানে চড়ে মহাকাশেও যান হার্ডনিং।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনটি গিনেস বিশ্বরেকর্ড দখলে রয়েছে হার্ডনিংয়ের। তিনি সমুদ্রের সবচেয়ে গভীরতম মারিয়ানা খাতে গিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ছিলেন।

গত বছর মার্কিন সাময়িকী বিজনেস এভিয়েশনকে হার্ডনিং জানান, তিনি হংকংয়ে বড় হয়েছেন, কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পাইলট হন। ব্যাঙ্কিং সফটওয়্যারে বিনিয়োগের পর তিনি অ্যাভিয়েশন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবমেরিনটিতে রয়েছে পাকিস্তানি ধনকুবের শাহজাদা দাউদ ও তার ছেলে সুলেমান।

শাহজাদা তাঁর স্ত্রী ক্রিশ্চিন ও সন্তানদের নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে থাকতেন। তবে এ সাবমেরিনে চড়ার জন্য তাঁরা এক মাস ধরে কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

শাহজাদা পাকিস্তানি কোম্পানি এনগ্রো কর্পোরেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান। এটি একটি বড় সার কারখানা। এছাড়া তিনি দাউদ ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসইটিআইর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শাহজাদা কিং চার্লস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দুটি দাতব্য সংস্থাতেও অর্থায়ন করতেন।

শাহজাদা যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিট অব বাকিংহাম থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এদিকে শাহজাদার পরিবার জানায়, সুলেমানের রুবিক কিউব ও ভলিবল খেলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ফরাসি নৌবাহিনীর ডুবুরি পল হেনরি নারজিওলেট। ৭৭ বছর বয়সী পল হেনরিকে ডাকা হতো টাইটানিক নামে। বলা হচ্ছে, তিনি সবচেয়ে বেশিবার টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখেছেন। ১৯৮৫ সালে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। এর দুই বছর পর সেটি দেখতে যান হেনরি।

এছাড়া সাবমেরিন টাইটানের মালিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওশানগেটের সিইও স্টকটন রাশ আছেন নিখোঁজ হওয়া সাবমেরিনটিতে। রাশ একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি একটি উড়োজাহাজ ডিজাইন করেছেন এবং অন্যান্য ছোট সাবমেরিনে কাজ করেছেন।

২০০৯ সালে রাশ ওশানগেট কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখার জন্য যাত্রীদের সুযোগ করে দেয়। এর জন্য এক যাত্রী থেকে নেওয়া হতো আড়াই লাখ ডলার।

বিবিসি জানায়, নিখোঁজ সাবমেরিনটিতে আর মাত্র ৩০ ঘণ্টার অক্সিজেন রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করা না গেলে হয়তো কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালে পর্যটকবাহী জাহাজ টাইটানিক ডুবে যায়। যার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে উত্তর আটলান্টিকের তলদেশে। যেটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ হাজার ১২৩ ফুট গভীরে পড়ে আছে। সেটি দেখতে সাবমেরিন টাইটানে চেপে রোববার কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড প্রদেশের সেন্টজন শহর থেকে রওনা হন ওই পাঁচ পর্যটক।







© সকল স্বত্ব- সমাজ নিউজ -কর্তৃক সংরক্ষিত
২২ সেগুনবাগিচা, ৫ম তলা, ঢাকা- বাংলাদেশ।
ই-মেইল: news@somajnews.com, ওয়েব: www.somajnews.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ডিজাইন: একুশে