বুধবার রাত ৩:৪৬

২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ হেমন্তকাল

রমজানেও অচেনা রাজধানী

দীপন নন্দি: রমজান মাস শুরু হয়েছে শনিবার (২৫ এপ্রিল)। রোববার (২৬ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিন। সব ঠিক থাকলে সড়কে থাকতো যানজট, বিপণীবিতানগুলোতে জনজট। নিষ্ঠুর করোনা এর সবই কেড়ে নিয়েছে। সারাদেশের মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখা করোনার প্রভাবে রমজানেও থমকে আছে রাজধানী। অন্যবার জটে থমকে থাকে, এবার থমথমে ফাঁকা পরিবেশ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের দিনগুলোর মতোই নীরব, সুনসান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আনাগোনা সড়কে আগের চেয়ে বেশি ছিল। রমজান মাসের পরিচিত দৃশ্য- পথে পথে ইফতারের দোকানের দেখা মেলেনি। তবে বিভিন্ন এলাকার ভেতরে কিছু দোকান খোলা থাকলেও সেখানে মানুষের ভিড় খুব একা লক্ষ্য করা যায়নি।
 
করোনার বিস্তার ঠেকাতে অঘোষিত লকডাউন চলছে গত ২৬ মার্চ থেকে। যার ৩১তম দিন ছিল রোববার। আগের ৩০ দিনের মতো এ দিনও রাস্তায় ছিল না তেমন যানবাহন।
 
হাতেগোনা কিছু রিকশা আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন চলাচল ছাড়া সড়ক ছিল শূন্য। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল চোখের পড়ার মতো।
 
বিকেলে রাজধানীর টিকাটুলী মোড়ে কথা হলো স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এটা আসলে কল্পনার অতীত। কোনোদিন ভাবিনি রোজার দিনে ঢাকা শহর এমন ফাঁকা থাকবে। তবে একটা কথা সত্যি, আমরা যদি আসলে ঘরে থাকি, তাহলে কিন্তু করোনা বাইরে থাকবে। আমি যেমন অফিসের জরুরি একটা কাজে প্রায় ১৫ দিন পর ঘর থেকে বের হলাম। মানুষকে আসলে সচেতন হতে হবে।
 
থমকে যাওয়া রাজধানীতে বিপাকে আছেন ইফতারের সময়ে যাদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এই যেমন প্রথম রোজার দিনে এই বিপদে পড়েছিলেন ধানমন্ডির জিগাতলার বাসিন্দা আবু জর আনসার উদ্দিন। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমার এক বন্ধু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঢাকায় তার আর কেউ না থাকায় আমাকে আসতে হয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি। গতকাল (শনিবার) ইফতারের সময়ে রাস্তায় বের হয়ে দেখি, কোথাও কোনো ইফতারির দোকান নেই। পরে হাসপাতাল থেকে পানি নিয়ে রোজা ভেঙেছি। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরে এমন হওয়াটা অসম্ভব।
 
রাজধানীর সবচেয়ে বড় ইফতারির বাজার চকবাজারের দিকে যেতেই বাধা উর্দু রোডের মুখে। বাঁশ দিয়ে পথ আটকানো। রমজানে মাসজুড়ে চকবাজারের শাহী মসজিদের সামনে বসতো ইফতারের পসরা। সেখানে এখন শুধুই নীরবতা।
 
সেখানকার এক ব্যবসায়ী ইকরামুল মোল্লার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এবার চকবাজারে ইফতারের কোনো আয়োজন থাকবে না। গত ১৩০ বছর ধরে এখানে ইফতারের বাজার বসে। এ ঐতিহ্য এবার ভেঙে গেছে। আল্লাহ সব ঠিক রাখলে আগামী বছর ইনশাল্লাহ আবারও বড় করে ইফতারির আয়োজন বসবে।
 
এদিকে, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করার পরিতৃপ্তিও রয়েছে অনেকের মাঝে। গেন্ডারিয়া বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, প্রতিবছর প্রথম রোজাটা বউ-বাচ্চাদের সঙ্গে ইফতার করতে পারি। এরপর ব্যবসার কারণে চাঁনরাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকি। এবার করোনার উছিলায় আল্লাহ পরিবারের সঙ্গে ইফতারি করার তৌফিক দান করেছেন। তবে সামনের দিনগুলোর কথা চিন্তা করতে টেনশনও হচ্ছে।
 
এদিকে, দুপুর দু’টার মধ্যে বাজার ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও বলবৎ রয়েছে। যার ফলে ইফতারের পসরা নিয়ে রাস্তায় বসতে দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন এলাকার হোটেল ও বেকারিগুলো দোকানের এক পাশের ঝাঁপি খুলে স্বল্প আকারে ইফতারি বিক্রি করতে দেখা যায়।

Comments are closed.







© সকল স্বত্ব- সমাজ নিউজ -কর্তৃক সংরক্ষিত
২২ সেগুনবাগিচা, ৫ম তলা, ঢাকা- বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭১৩-৫১২৫৮২।
ই-মেইল: news@somajnews.com, ওয়েব: www.somajnews.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ডিজাইন: একুশে