শুক্রবার বিকাল ৪:৩১

২৯শে মে, ২০২০ ইং

৫ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ গ্রীষ্মকাল

বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়, অদ্ভুদ ও ভয়ঙ্কর সাগরের রহস্য!

পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়, অদ্ভুদ এবং ভয়ঙ্কর সাগরের তালিকা করা হলে প্রথমেই যে নামটি আসবে সেটি হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। রহস্যময় ভূতুরে, গোলমেলে, অভয়া সব বিশ্লেষণই এই ট্রায়াঙ্গলের জন্য উপযুক্ত। সারা বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হচ্ছে হচ্ছে এই ট্রায়াঙ্গল। এই স্থানটির রহস্য উদঘাটনের জন্য অসংখ্য গবেষণা চালানো হয়েছে। তবু আজও এই স্থানটির নেপথ্যে কি রয়েছে তা জানা যায়নি।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকাটি আটলান্টিক মহাসাগরের ত্রিভূজাকার একটি বিশেষ অঞ্চল যেখানে বেশকিছু জাহাজ এবং উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে চিরদিনের জন্য। ‘কষ্ট অব ফায়ারে’ কলম্বাস এ কথা উল্লেখ করেছেন। কলম্বাস লিখেছিলেন যে তার জাহাজের নাবিকেরা এই অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি এবং আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টা-পাল্টা দিক নির্দেশনার কথাও লিখেছেন।

১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫ টি যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উড্ডয়ন করে। কিছুক্ষণ পরেই তারা সেই ভয়ঙ্কর বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কাছে পৌঁছে যায় এবং কেন্দ্রে মেসেজ দেয় যে তারা সামনে আর কিছুই দেখতে পারছে না । যতদূর চোখ যায় শুধুই কোঁয়াশা। অদৃশ্য হওয়ার শেষ মুহূর্তে তাদের শেষ কথা ছিল আমাদের বাঁচাও, উদ্ধার কর আমাদের এখান থেকে, আকাশের কোঁয়াশা আমাদের কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। এরপর আর তাদের কাছ থেকে কোন ধরণের ম্যাসেজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করার জন্য উদ্ধারকারী একটি বিমান সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু উদ্ধারকারী বিমানটিও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর পরপরই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৫০ সালের ১৬ ই সেপ্টেম্বর অ্যাসোসিয়েট প্রেসের এক সাংবাদিক ডাব্লিউ জোনসে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ঘটনার কথা লিখে একে বিশ্ববাসীর নজরে আনেন। ১৯৫২ সালের ফেক ম্যাগাজিনে জর্জস একসেসান লিখেন ‘সি মিসড এট আওয়ার ব্যাকডোর’, জর্জ ওয়েকসান ৫ জন ইউএস নেভিসহ ১৯ নং ফ্লাইটের নিখোঁজ সংবাদ ছাপেন। শুরু হয় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য।

১৯৫৯ সালের ১৭ই জানুয়ারি ‘স্টার ইয়েল’ নামের একটি বিমান লন্ডন থেকে জ্যামাইকা যাচ্ছিল। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে এটি বারমুডার আকাশে উড়ল। তখন আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক ও সুন্দর আর সমুদ্র ছিল শান্ত। উড়ার ৫৫ মিনিট পর বিমানটি অদৃশ্য হয়ে গেল। এ নিয়ে অনেক অনুসন্ধান হল কিন্তু কোথাও বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেল না। বিমানটি অদৃশ্য হয়েছিল ১৭ তারিখ। ১৮ তারিখ রাতে এক অনুসন্ধান দল জানালো সেখানকার সমুদ্রের একটি বিশেষ বিশেষ জায়গা থেকে অদ্ভুদ একটি আলোর আবাস দেখা গেছে।

এ ঘটনার একবছর আগে সেখান থেকে রহস্যময়ভাবে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল একটি ডিসি-৩ বিমান। সেটি যাচ্ছিল সানজুয়ান থেকে সিয়ামী। এছাড়া অসংখ্য ঘটনা উল্লেখ আছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে নিয়ে।

এ স্থানটিকে নিয়ে কিছু মানুষ মনে করে ভিন্নগ্রহের মানুষেরা যখন পৃথিবীতে আসে তখন তাদের ঐ স্থানটিকে তারা ঘাটি বানিয়ে নেয়। এই কারণে এখানে যা আসবে সেটি গায়েব করে দিবে। যাতে করে তাদের কেউ ক্ষতি করতে বা তাদের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া না যায়।

এই অঞ্চলের রহস্যময় তার একটি দিক হল কোন জাহাজ এই ত্রিভূজ এলাকায় প্রবেশ করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বেতার তরঙ্গ প্রেরণে অক্ষম হয়ে পড়ে। এর ফলে জাহাজটি উপকূলের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ  হয়। এক সময় তা দিক নির্ণয় করতে না পেরে রহস্যময়ভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়।

মার্কিন নেভির সূত্র অনুযায়ী, গত ২০০ বছরে এই ট্রায়াঙ্গলে ৫০ টি বাণিজ্যিক এবং ২০ টি বিমান চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালের মে মাসে হারিয়ে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ডুবো জাহাজের ঘটনাটি সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলে। সর্বশেষ, ১৪ ই মে ২০১৭ ক্যারিবীয় দ্বীপ পুয়ের্তো রিকো থেকে জেনিফার ব্লুমিন নামের এক নারী, দুই শিশুসন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টিটুসভিলে উড়ে যাচ্ছিল একটি বিমান। হঠাৎ বিমানটি গায়েব হয়। উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গেই। এর পর থেকে বিমানটির আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রেডিও সংযোগ হারানোর সময় বিমানটি যে স্থানে ছিল, তা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নামে পরিচিত।

ঘটনা তদন্তে এরমধ্যে বিজ্ঞানসম্মত যে ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে তা হল এলাকাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট হল এখানে স্বাভাবিকের চাইতে কোঁয়াশা অনেক বেশি এবং এর ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি। যার কারণে এলাকায় নাবিকেরা প্রবেশের পরই দিক হারিয়ে ফেলে এবং তাদের মধ্যে এক প্রকার বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। হয়তো এই বিভ্রান্তির ফলেই তারা যথাযথভাবে বেতার তরঙ্গ পাঠাতে পারে না। আর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে না পাওয়ার ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলেন, এই ট্রায়াঙ্গালে সমুদ্রের গভীরতা এতটাই বেশি যে এখানে যদি কোন জাহাজ বা বিমান বর্তমানকালে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে যদিও এর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায় তবে তা উদ্ধার করা অসম্ভব।

Comments are closed.







প্রকাশক ও সম্পাদক: মো. দেলোয়ার হোসেন (শরীফ), প্রধান সম্পাদক: শান্ত বণিক।
২২ সেগুনবাগিচা, ৫ম তলা, ঢাকা- বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭১৩-৫১২৫৮২।
ই-মেইল: news@somajnews.com, ওয়েব: www.somajnews.com

ডিজাইন: একুশে