শুক্রবার ভোর ৫:২৪

২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ হেমন্তকাল

নরসিংদীর মনোহরদীতে বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, অভয়ারণ্য তৈরির দাবি

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুরে দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে বনজঙ্গলের বিস্তৃতি। এ কারণে কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক খাবারের উৎস। তাই প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও মানুষের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে বানরগুলো। শুধু বাড়িঘরেই নয়, পথচারীদের হাত থেকে অনেক সময় খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বানরের এত সব অত্যচার সহ্য করেও তাদের প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহের শেষ নেই গ্রামবাসীর। তাই শত বাঁদরামো সহ্য করেও সাধ্যমতো লালন করে বানরসমাজকে আগলে রেখেছে এখানকার মানুষ। একই সঙ্গে দ্রুত সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে বাস উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি করে বানর রক্ষার দাবি জানিয়েছে গ্রামবাসী। বানর ও স্থানীয় লোকজনের সম্প্রীতির এ বন্ধন শতাধিক বছর ধরে রামপুর গ্রামে।
গ্রামবাসীদের পক্ষে সাংবাদিক শান্ত বণিক এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোহরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম রামপুর। গ্রামটির বেশির ভাগ অংশ বনজঙ্গলে ঘেরা। এখানে বহু বছর ধরে মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করে আসছে সহস্রাধিক বানর । প্রায় দুইশত বছর আগে রামপুরে ভূমি অফিসের জনৈক তহশিলদার শখের বসে একটি পুরুষ বানর পুষতেন। তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে কর্মস্থলেই রেখে যান পোষা বানরটি। পরবর্তী সময়ে অপর এক তহশিলদার একটি স্ত্রী বানর এনে লালন-পালন শুরু করেন। পালনের এক বছর পর এই বানর জোড়া রামপুর গ্রামের গহিন জঙ্গলে অবমুক্ত করেন। সেই থেকে পর্যায়ক্রমে বানরের বংশবৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে রামপুর গ্রামে বানরের সংখ্যা প্রায় সহস্রাধিক দাঁড়িয়েছে। তবে দিন দিন বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় বিপাকে আছে বানরসমাজ। খাবারের অভাবে অনেকটা বাধ্য হয়েই ফসলি জমি ও মানুষের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে তারা।
গ্রামবাসীরা জানান, বানরের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। গাছের ফল থেকে শুরু করে বাড়িঘরের ভেতরে কোথাও কোনো খাবার রাখা যায় না। সুযোগ পেলেই বানরগুলা এসে নিয়ে যায়। রামপুর গ্রামের ৬০ শতাংশ মানুষ পান চাষ করে। বানর পানপাতা না খেলেও বরজে ঢুকে খুঁটি ও চারাগাছের অনেক ক্ষতি করে। গ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে দলভুক্ত হয়ে বাস করে বানররা। প্রতিটি দলে দেড় থেকে দুই শ বানর থাকে। এ রকম প্রায় ৭/৮টি দল আছে রামপুরে। কিন্তু পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তারা সব সময় গ্রামবাসীদের যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। যদিও ভুক্তভোগীদের অনেকটা সহ্য হয়ে গেছে। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বানর দেখতে আসে দর্শনার্থীরা।
এলাকাবাসীর দাবী সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বানর আর গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে রামপুর হতে পারে দর্শনীয় প্রাণীবৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য। তাই বানর সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে অাসবে এমনটাই প্রত্যাশা।

Comments are closed.







© সকল স্বত্ব- সমাজ নিউজ -কর্তৃক সংরক্ষিত
২২ সেগুনবাগিচা, ৫ম তলা, ঢাকা- বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭১৩-৫১২৫৮২।
ই-মেইল: news@somajnews.com, ওয়েব: www.somajnews.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ডিজাইন: একুশে