সোমবার দুপুর ১২:৩৪

২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

৩রা সফর, ১৪৪২ হিজরি

৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ শরৎকাল

ওয়েব সি‌রিজে অশ্লীলতা নিয়ে বিব্রত অপু

ধরুন, পা‌রিবা‌রিক আড্ডা হচ্ছে। আপনি আড্ডার ফাঁকে ফেসবুকে বন্ধুদের পোস্টগুলো পড়ছেন। হঠাৎ একটি ভিডিওতে চোখ আটকে গেল। কৌতূহলী হয়ে প্লে বাটন চাপতেই নোংরা দৃশ্যের সঙ্গে অশ্লীল শব্দ ভেসে এলো। কী করবেন সেই মুহূর্তে?

পাঠক, এই প্রশ্নটি আপনার উদ্দেশ্যে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের। সম্প্রতি এমনই এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন তিনি।

দিনকয়েক আগের ঘটনা। অপু বলেন, ‘বাসায় বসে ফেসবুকে বন্ধুদের পোস্টগুলো দেখছিলাম। হঠাৎ একটি ভিডিও ক্লিপ এলো। নাটকের দৃশ্য ভেবে ক্লিক করতেই; ওমা! কি সব আপত্তিকর দৃশ্য শুরু হলো। এর সঙ্গে আবার অশ্লীল শব্দ!’

অপুর সঙ্গে এ সময় পরিবারের অনেকেই ছিলেন। বিশেষ করে মা’র সামনে অপু এই ঘটনায় ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েন। অপুর ভাষায় ‘আমি লজ্জায় মুখ লুকাতে পারছিলাম না!’

অবাক ব্যাপার হলো, ভিডিও ক্লিপটি ছিলো আমাদের দেশেরই একটি ওয়েব সিরিজের। অপু ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এখনই এসব বন্ধ করা উচিত। আমাদের চলচ্চিত্রেও একটা সময় অশ্লীলতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরিণতি সবারই জানা। ফলটা ভালো হয়নি। সুতরাং ওয়েব সিরিজের নামে এই অশ্লীলতাও ভালো ফল বয়ে আনবে না। ভালো দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবেই। ’

কিন্তু টেলিভিশনে নাটক এবং অনলাইনে ওয়েব সিরিজে কিছু পার্থক্য থাকবেই। বিশেষ করে এই উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির কালে ওয়েব সিরিজে এমন দৃশ্য নতুন নয়। বিদেশে অহরহ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অপুর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। ‘এটা বাংলাদেশ। এসব আমাদের সংস্কৃতি না’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে অপু বলেন, ‘দেশের বাইরে ওয়েব সিরিজগুলোতে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অনেক নামিদামী শিল্পীকেও দেখা যায়। সেটা তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়।’

অপু উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কলকাতার বেশির ভাগ মেয়েরা বাড়িতে হাফ প্যান্ট গেঞ্জি অনায়াসে পরতে পারে। রাত দশটার পর বাড়ির বাইরে গিয়ে ফুচকা খেতে পারে। এখানে আমি একজন সিনেমার নায়িকা হয়েও বাড়িতে প্যান্ট-গেঞ্জি পরতে পারি না। বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যখন চলচ্চিত্রে পা রাখি তখনও অশ্লীলতা ছিলো। তখন কিন্তু আমি সেই স্রোতে গা ভাসাইনি। অন্যরা করছে বলে আমরাও করবো এটা ঠিক নয়। আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদেরই গুরুত্ব দিতে হবে। এই বোধটা সবার থাকা উচিত বলে মনে করি।’

সম্প্রতি তিনটি ওয়েব সিরিজ প্রকাশের পর অশ্লীলতার অভিযোগে ভীষণ সমালোচিত হয়।  অনলাইনভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট বিঞ্জ-এর প্রযোজনায় নির্মিত ওয়েব সিরিজ তিনটি হলো— ওয়াহিদ তারিকের ‘বুমেরাং’, সুমন আনোয়ারের ‘সদরঘাটের টাইগার’ এবং শিহাব শাহীনের ‘আগস্ট ১৪’। বিতর্কের পর ‘বুমেরাং’ ও ‘সদরঘাটের টাইগার’ সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট ১৪’-এর আপত্তিকর দৃশ্যগুলো কর্তনের পর ‘বিঞ্জ’-এ রাখা হয়েছে।

Comments are closed.







© সকল স্বত্ব- সমাজ নিউজ -কর্তৃক সংরক্ষিত
২২ সেগুনবাগিচা, ৫ম তলা, ঢাকা- বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১১-৩২৪৬৬০, ০১৭১৩-৫১২৫৮২।
ই-মেইল: news@somajnews.com, ওয়েব: www.somajnews.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ডিজাইন: একুশে